গুলশানে তারাবিহ নামাজ থেকে আটক ১৭ জনের মধ্যে ১১ জনকে এক দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। বাকী পাঁচ আসামির মধ্যে দুই নারী এবং তিন শিশুকে রিমান্ড না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (২৭ মার্চ) রাতে রাজধানীর শাহজাদপুরের সুবাস্তু মার্কেট সংলগ্ন ইসলামিক এন্টারপ্রাইজ (কুরআন শিক্ষা কেন্দ্র) থেকে ১৭ জনকে আটক করে গুলশান থানা পুলিশ। এরমধ্যে হাফেজ আব্দুল আজিজ (১৭), হাফেজ মুসফিকুর রহমান (১৬), হাফেজ জাকারিয়া(১৬) এই তিনজন তারাবিহ নামাজের ইমাম। পরে বিশেষ ক্ষমতা এবং বিষ্ফোরকদ্রব্য আইনের গুলশান থানার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের আদালতে তোলা হয়। পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
কুরআন শিক্ষা কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা পরিচালনা করে আসছেন। এখানে বয়স্কদের কুরআন শিক্ষা দেয়া হয়। প্রতি বছর পবিত্র রমজান মাসে পুরুষ ও নারীদের তারাবীহ নামাজ আদায় করে থাকেন। নিয়মিত কিয়ামুল লাইল হয়ে থাকে। এছাড়া বয়স্করা সহিহ কোরআন শিক্ষা ক্লাস করে থাকেন। ইসলামিক সেন্টারটিতে কোরআন, হাদীস ও নামাজ শিক্ষা বইসহ বিভিন্ন মাসয়ালা মাসায়েলের বইও বিক্রি করা হয়। এলাকার সর্বস্তরের মানুষ এই কেন্দ্রের সাথে সম্পৃক্ত।
প্রতিষ্ঠানটির সহকারী পরিচালক আ. মোতালেব মঈন বলেন, পুলিশ অন্যায়ভাবে বিনা কারণে আটক করেছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশের নাগরিকদের ধর্মীয় ইবাদাত বন্দেগি করা অবস্থায় আটক করে ধর্মীয় স্বাধীনতায় আঘাত হেনেছে। পবিত্র রমজান মাসে মুসল্লি ও ইমামকে আটক করে ইসরাইলী বাহিনীর মতো বর্বরতার পরিচয় দিয়েছে।
পুলিশের দাবি, আটককৃত সবাই জামায়াতে ইসলামীর কর্মী। নাশকতার পরিকল্পনা করতে তারা একত্রিত হয়েছিলো। তাদের কাছ থেকে ৮টি ককটেলসহ বিভিন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য জব্দ করা হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।