আমার দূর্ভাগ্য—কোনোদিনই চরমোনাই পীরসাহেব বা তাদের খান্দানের কারো সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারিনি। তারা অবশ্য সারা দেশে বয়ান করেন, সমাবেশ করেন, আমি একমুহূর্তের জন্যও এসবে হাজির হইনি বা হতে পারিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় চরমোনাইর ছোট পীর সাহেবের বয়ান মাঝেমধ্যেই ভাইরাল হয়। আমি তার মনোযোগী দর্শক। আমার মনে হয়েছে তার এসব অনাকাঙ্ক্ষিত মিসটেক। এসব মিসটেক অনেকেরই হয়। ভাইরাল হয় কজনের?
ভুল করে ভুলের ওপর অটল থাকা মূর্খতা ও গোঁড়ামি। আমি পীর সাহেবকে দেখেছি বেশ কয়েকবারই তার বক্তব্য শুধরে নিয়েছেন। এত বড় জায়গা থেকে প্রকাশ্যে ভুল সংশোধন করার হিম্মত এদেশের কজন আলেমের আছে আমার জানা নেই। সমালোচনার জন্য সমালোচনা আমাদের দেশীয় একটি ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। যাকে দেখতে পারি না তার চলন বাঁকা। এই নীতি দ্বীনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
মিডিয়ায় কাজের সুবাদে—ইচ্ছায় অনিচ্ছায় প্রতিদিন নানা রকমের সংবাদ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করি। ছোটাছুটি করি। বিশ্লেষণ করি। সংবাদের ভেতরে ঢুকি। বাহিরেও দেখি। ইসলামি সংগঠনের সংবাদগুলো আমার সুখপাঠ্য। পত্রিকার ফাইল ঘেঁটে, ভেতরের সাদাকালো পাতার কোনায়, এক কলামে ছোট্ট করে ইসলামি দলগুলোর যে নিউজ ছাপা হয় তা আমি পড়ি গভীর মনোযোগে।
চরমোনাই পীরসাহেবের দল ইসলামি আন্দোলনের এক্টিভিটিস আমাকে আশান্বিত করে। রাজনৈতিক সংগঠন বলতে যা বোঝায় তার সব বৈশিষ্ট্যই তাদের মাঝে আছে। আমি দেশের ডানপন্থি ও বামপন্থি দাপুটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, মোটাদাগে বলা যায়—তারা সবাই পীর সাহেবের দল ইসলামি আন্দোলনকে নিয়ে ভালো কিছু আশা করেন। ব্যক্তিগতভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি, তারা গতানুগতিক রাজনীতির বাহিরে যেটা করেন সেটা হলো—তারা দেশের বড় বড় সন্ত্রাসী, ক্যাডার ও মাস্তানদের ধরে এনে জিকিরের হালকায় বসিয়ে দেন। বিরাট বিরাট গুণ্ডা, বদমাশদেরকে সবুজ পাগড়ি পরিয়ে লাল সবুজের পাহারাদার বানিয়ে দেন। মদ্যপ ও খুনিদের পরিণত করে ফেলেন দেশ ও দীনের রক্ষকে।
আমি এরকম ভার্সিটি পড়া বহু তরুণকে চিনি, গাঁজা, হেরোইন আর ইয়াবার আসরে যাদের রাত পার হতো চরমোনাই এর ছোঁয়ায় তারা এখন সারারাত সেজদায় পাড়ে থাকেন। এরকম কতো যুবক আছেন, যারা একসময় ধর্ষক ও লম্পটের ভূমিকায় ছিলেন, ইসলামি আন্দোলন করে তারা এখন নারীর সম্ভ্রম ও ইজ্জতের প্রহরী বনে গেছেন।
ইসলামের পরিপূর্ণ রূপরেখাকে সব শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে উপস্থাপন করতে পীরসাহেবের দল ইসলামি আন্দোলন যে ভূমিকা রাখছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। ইসলামি রাজনীতিকে গণমুখী রাজনীতিতে রূপ দিতে এই সংগঠনটির অবদান অনস্বীকার্য। এক কথায় বলা যায়—স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্ববৃহৎ গণমুখী ইসলামি রাজনৈতিক সংগঠন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ।
সহসম্পাদক, দৈনিক যুগান্তর