টানা ৪০ দিন মসজিদে গিয়ে এশা ও ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করে বাইসাইকেল বিজয়ী ২৩০ শিশুকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশিষ্ট দাঈ ও স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ। সঙ্গে মসজিদ কমিটি এবং শিশুদের অভিভাবকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেন- ‘টানা ৪০ দিন মসজিদে গিয়ে জামাতে এশা ও ফজরের সালাত আদায়ের চ্যালেঞ্জে জয়ী শিশুদেরকে পুরস্কার হিসেবে সাইকেল দিয়েছেন মিরপুর ডিওএইচএস সেন্ট্রাল মসজিদ কর্তৃপক্ষ। আগামী প্রজন্মকে মসজিদমুখী করতে তাঁরা অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আমি তাঁদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। পুরস্কারজয়ী শিশু কিশোরদের অভিনন্দন! তাদের পিতা-মাতার আন্তরিক চেষ্টা ছাড়া শিশু-কিশোরদের দ্বারা এরকম অর্জন সম্ভব হতো না। এজন্য তাঁদের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা।
শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও লিখেছেন, ‘আপনার সন্তানকে কিশোর গ্যাং ও বখাটেপনার হাত থেকে বাঁচাতে সালাতের অভ্যাস গড়ে তুলুন। ফিতনা-সংকুল সময়ে মুসলমানের সন্তানদের দীনবিমুখ করার জন্য চারপাশে হাজারো উপকরণ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এ সময়ে শিশু-কিশোরের মধ্যে ইসলামি মূল্যবোধ জাগ্রত করতে ও দীনি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে অন্যান্য মসজিদ কর্তৃপক্ষও সাধ্যমতো নানা আয়োজন করতে পারেন। মহান আল্লাহ সবাইকে সুসন্তান ও তাকওয়াবান মুসলিম হওয়ার তাওফিক দান করুন।
এর আগে রাজধানীর মিরপুরের ডিওএইচএসের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উদ্যোগে এমন ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। গতকাল শুক্রবার (৪ নভেম্বর) বিজয়ীদের মাঝে উপহারের বাই সাইকেল তুলে দেওয়া হয়।
আয়োজক কর্তৃপক্ষ বলছে, ছোট শিশু-কিশোরদের সঠিকভাবে নামাজ আদায়, ইসলামি মূল্যবোধ, আচরন, নিয়মানুবর্তিতা এবং দীনি শিক্ষার চেতনাকে জাগিয়ে দিতেই তাদের এই উদ্যোগ। ধর্মীয় আচার
জানা গেছে, এই উদ্যোগে সাড়া দিয়ে আবেদন করে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার ৩৫২ জন শিশু। তারা এজন্য নিবন্ধনও করে। তাদের মধ্যে ২৩০ জন শিশু-কিশোর ঠিকভাবে টানা ৪০ দিন মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করেছে। যারা সর্বনিম্ন ৩০ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেছে তাদের দেওয়া হয়েছে স্মার্ট ওয়াচ (ঘড়ি)।
জানা গেছে, গত বছরও মিরপুর ডিওএইচএসে এই ধরনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেবারও সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়। গতবার ৯৩ জন শিশু-কিশোর টানা ৪০ দিন নামাজ আদায় করে তারা উপহার হিসেবে পেয়েছিল বাইসাইকেল। এবার সেই সংখ্যাটি বেড়ে প্রায় তিন গুণ হয়।
মসজিদ কমিটির এমন আয়োজনে অভিভাবকরাও অনেক খুশি। অভিভাবক মামুন উর রশিদ বলেন, এই উদ্যোগ অনেক প্রশংসনীয়। দেশের প্রতিটি মসজিদ কমিটি এমন আয়োজন করতে পারেন। সবার বাচ্চাদের মসজিদমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। আমাদের সন্তানেরা মসজিদে আসার ফলে অনেক দীনি বিষয় সঠিক ভাবে শিখতে পেরেছে।
এ প্রসঙ্গে মিরপুর ডিওএইচএসের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব, হাফেজ মাওলানা মোশাররফ হোসেন বলেন, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই প্রতিযোগিতায় বাবা-মা মূল ভূমিকা রেখেছেন। তারাও অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। সন্তানকে বাবা মসজিদে নিয়ে এসেছেন আর মা প্রস্তুত করে পাঠিয়েছেন। এজন্য এই সাফল্যের নেপথ্য কারিগর তারাই। আর পুরো বিষয়টি মনিটরিং করেছে মসজিদ কমিটি। আগামীতেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আশা করি আগামীতে এই সংখ্যা আরও অনেক বাড়ব
সম্মানিত পাঠক, আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেইজে আপনাকে স্বাগতম