আজ পবিত্র আশুরা। এদিন হযরত মূসা (আ) তার কওম সহ ফেরআউনের থেকে মুক্তি পেয়েছিল। এবং ফেরআউনকে নীল নদে আল্লাহ ডুবিয়ে দিয়েছিলেন। এর শুকরিয়া হিসাবে আমরা রোজা রাখি। নবীজির (সা) ইন্তেকালের প্রায় ৫০ বছর পরে এই দিনে হযরত হুসাইন (রা) ও তাঁর পরিবারের অনেক সদস্যকে ইয়াজিদের বাহিনী মর্মান্তিক ভাবে শহীদ করে দেয়। আমরা উক্ত ঘটনায় মর্মাহত হই। মুসলিম মাত্রই এতে ব্যথিত হবেন। কিন্তু শীয়া সম্প্রদায় প্রতি বছর বছর এই দিনে শিরক ও বিদআতে পরিপূর্ণ তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করে।
শীয়া ধর্মের লোকদের তথা-কথিত এই “তাজিয়া মিছিল”কেই মিডিয়া আশুরা/মুহাররম উদযাপন হিসাবে দেখায়। নবীজির (সাঃ) আশুরা উদযাপন তো ছিল শুধু রোজা রাখা।
মুসলিমদের অনেকেও না বুঝে এসব শিরকী-বিদআতী কর্মকান্ডে অংশ নিয়ে থাকে। মুসলিম পরিবারের অনেক ইলমহীন ব্যক্তি তাদের সন্তানকে “ঈমামবাড়া” বা তাজিয়া মিছিলে দেয়ার মান্নত করে (নাউজুবিল্লাহ)। তাজিয়া মিছিলের ঘোড়ার মূর্তির পায়ে সুতা বাধা সহ নানা শিরকী আকিদার সাথে যুক্ত হয়। শীয়া ধর্মের উৎপত্তি ও তাদের ভ্রষ্টতা এবং তাজিয়া মিছিলে কত প্রকারের শিরকী-বিদআতী কাজের সাথে তারা জড়িত।
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে এখান থেকেঃ
https://hellohasan.com/2021/07/09/শীয়া-মতবাদ-বই-রিভিউ
শোক প্রকাশের এই পদ্ধতি যদি মুসলিমদের কাজ হতো। তাহলে আমরা নবীজির (সাঃ) প্রিয়তম চাচার শহীদ হওয়ার ঘটনায় বুক চাপড়ে শোক প্রকাশ করতাম। ওহুদের যুদ্ধে নবীজির (সাঃ) প্রিয়তম চাচা ও অভিভাবক হযরত হামজা (রা) শহীদ হন। তাঁর বুক চিরে কলিজা বের করে হিন্দা বিনতে উতবার কাছে আনা হলে সে সেই কলিজা চিবাতে থাকে। হযরত হামজার (রাঃ) লাশ বিকৃত করা হয়। এই ঘটনার শোক নবীজি (সাঃ) কিভাবে প্রকাশ করেছিলেন? তিনি কি সাহাবীগণ (রাঃ) সহ প্রতি বছর বছর বুক চাপড়ে মাতম করেছিলেন? (নাউযুবিল্লাহ) তিনি কি নিজ শরীর ক্ষত বিক্ষত করেছিলেন? (নাউযুবিল্লাহ)
নবীজির (সাঃ) শিশুপুত্র ইবরাহীমের ইন্তেকালের পর নবীজির (সাঃ) চোখ বেয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়েছিল। এ সম্পর্কে তাঁকে (সাঃ) জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছেনঃ
“অন্তর ব্যথিত হয় আর চোখ অশ্রুসিক্ত হয়। কিন্তু আমরা মুখে কেবল এমন কথাই উচ্চারণ করব যাতে আমাদের প্রতিপালক সন্তুষ্ট হন। হে ইব্রাহিম, তোমার বিরহে আমরা মর্মাহত।” [বুখারী : ১৩০৩]
নবীজি (সাঃ) বলেন, ‘মানুষের মধ্যে দুটি চরিত্র কুফুরির পর্যায়ের। একটি হলো বংশ মর্যাদায় আঘাত হানা। আর অপরটি হলো কোনো মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে বিলাপ করা। ’ (মুসলিম : ৬৭)
আমরা মুসলিমরা যখন বলি বুক চাপড়ে “হায় হোসেন হায় হোসেন” করা আর বিভিন্ন শিরকী-বিদআতী কর্মকান্ড থেকে ইসলাম পবিত্র। তখন শীয়া ধর্মের লোকেরা বা শীয়াদের অনুরাগীগণ সেখানে “এজিদের বংশ” দেখতে পায়। আমার এই পোস্টেও হয়ত ২-১ জন আমাকে এজিদের অনুসারী বলে গালাগালি করে যাবে।
আল্লাহ আমাদেরকে সকল শিরকী ও বিদআতী কর্মকান্ড থেকে হেফাজত করুন। আমীন।
মুহাররম ও আশুরার ফজিলত, করণীয় ও বর্জনীয় কাজ সম্পর্কে জানা যাবে এখান থেকেঃ
https://hellohasan.com/2021/08/03/মুহাররম-আশুরা-রোজা-ফজিলত
মুহাররমের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে জানতে এই ভিডিওটি দেখতে পারেনঃ
https://youtu.be/onF50K_bqBY (মাওলানা মাসীহুল্লাহ হাসান)
This content is copied from Muslims Day Android App
Download Link: https://play.google.com/store/apps/details?id=theoaktroop.appoframadan