এহসান গ্রুপের অর্থ আত্মসাতের ৫টি মামলায় হাফিজুর রহমান (কুয়াকাটা হুজুরের) জামিন

এহসান গ্রুপের অর্থ আত্মসাতের ৫টি মামলায় হাফিজুর রহমান (কুয়াকাটা হুজুরের) জামিন

পিরোজপুরে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রাহকদের করা পাঁচ মামলায় এহসান গ্রুপের উপদেষ্টা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী ওরফে কুয়াকাটা হুজুর জামিন পেয়েছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী শ ম হায়দার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ২৫ জুলাই সোমবার বিকেলে পিরোজপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর মো. নোমান দীর্ঘ শুনানি শেষে জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। জামিন শুনানির সময় দুই পক্ষের আইনজীবীদের হট্টগোলে বিচারক দুইবার এজলাস ত্যাগ করেন। এ সময় বিচারকের সঙ্গে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) খান মো. আলাউদ্দিনের বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।

হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী হুজুর ওই পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিনে ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার জামিনের মেয়াদ শেষ হয়। এর দুই দিন আগে তিনি গত মঙ্গলবার সকালে পিরোজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। বিচারক রোববার জামিন শুনানির তারিখ রাখেন।

রবিবার বেলা ১১টার দিকে পিরোজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হন। দুপুরে বিচারক জামিনের আবেদন শুনানির জন্য পিরোজপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠান। এরপর পিরোজপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর মো. নোমান শুনানির একপর্যায়ে সোমবার শুনানির পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর তোপখানা রোড এলাকা থেকে প্রতারণা ও জালিয়াতি করে গ্রাহকদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান রাগীব আহসান ও তাঁর ভাই আবুল বাশার খানকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। ওই দিনই পিরোজপুর থানার পুলিশ রাগীব আহসানের দুই ভাই মাহমুদুল হাসান ও খাইরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। রাগীব আহসান, এহসান গ্রুপের উপদেষ্টা ও পরিচালকদের বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় পিরোজপুরে এ পর্যন্ত ১৯টি মামলা হয়েছে।

রাগীব আহসান, তাঁর ভাই আবুল বাশার, খাইরুল ইসলাম, শামীম হাসান ও মাহমুদুল হাসান বর্তমানে কারাগারে। তবে হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী ওই পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের জামিনে ছিলেন।

এহসান গ্রুপের সদস্যরা জানান, ২০০৮ সালে পিরোজপুরে এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্স প্রতিষ্ঠা করেন রাগীব আহসান। পরে অধিক মুনাফা দেওয়ার কথা বলে সঞ্চয় আমানত নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি এক লাখ টাকা আমানতের বিপরীতে মাসে দুই হাজার টাকা লভ্যাংশ দেওয়ার কথা বলে পিরোজপুর, পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠি ও বাগেরহাট জেলার ১০ হাজার ব্যক্তির কাছ থেকে শতকোটি টাকা সংগ্রহ করে। ২০১৯ সালের জুলাই মাস থেকে গ্রাহকদের মাসিক মুনাফা ও আমানতের টাকা ফেরত দেওয়া বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

 

ভিডিওতে দেখুন আসল ঘটনা হুজুরের মুখ থেকে শুনুন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *